শনিবার ৭ বৈশাখ, ১৪৩১ ২০ এপ্রিল, ২০২৪ শনিবার

রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি: তদন্ত করবে পিবিআই

অনলাইন ডেস্ক :-নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফ্যাক্টরিতে ৮ জুলাই সন্ধ্যায় আগুন লাগে। এ ঘটনায় সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তৃতীয় দিন শনিবার (১০ জুলাই) ভবনটির পাঁচ ও ছয়তলায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস। সকাল ৮টা থেকে অভিযান শুরু করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে সেজান জুস কারখানায় আগুন কীভাবে লেগেছিল? এটি নিছক দুর্ঘটনা, না মালিকপক্ষের গাফিলতি ছিল পেছনে? নাকি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে রয়েছে কোনো দ্বন্দ্ব? এসব কিছুই তদন্ত করে দেখবে পিবিআই।

পিবিআইয়ের নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এ আগুনের কারণ অনুসন্ধান বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে যদি মালিকপক্ষের গাফিলতি থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে।

তিনি বলেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠানে আগুন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থার নেওয়ার আইন রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা সেটিও আমরা দেখব। এ ছাড়া নাশকতার বিষয়টিও আমরা মাথায় রেখে অনুসন্ধান করছি।

গত ৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকার হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার নিচতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভবনে আটকা পড়ে নিখোঁজ হওয়া শ্রমিকদের উদ্ধারে দেরি হওয়ায় পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। শুক্রবার বেলা ১১টার থেকে সাড়ে ১১টায় পর্যন্ত প্রায় আধা ঘণ্টা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের ওপর এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষ চলাকালে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে তিনটি শটগান লুট করে। পরে দুটি উদ্ধার হলেও একটি এখনও উদ্ধার হয়নি।

এ ছাড়া রূপগঞ্জের সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম বেপারীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অন্যরা হলেন- রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ নুসরাত জাহান, জেলার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন, পুলিশের একজন প্রতিনিধি এবং কলকারখানা অধিদপ্তরের জেলার একজন কর্মকর্তা।

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/আয়েশা

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.