সোমবার ৯ বৈশাখ, ১৪৩১ ২২ এপ্রিল, ২০২৪ সোমবার

“অরগাজম মানে অরগানে কম্পন” বক্তব্যে – সলিমুল্লাহ খাঁন

Sayeda sultana annee – আজ ৯ মার্চ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটে (IAB) সলিমুল্লাহ খাঁন যখন উপরে উল্লেখিত বাক্যটি বললেন এবং বিশদ ব্যাখ্যার আয়োজন শুরু করলেন, আমি তখন স্থপতিভরা মজলিশ থেকে একা বেরিয়ে আসতে বাধ্য হলাম।

হ্যাঁ আজ আমার সেই দুর্ভাগ্য হল সলিমুল্লাহ খাঁনের বক্তব্য সামনাসামনি শোনার। আজ দুপুরে জানলাম “বাংলার সংস্কৃতি ঐতিহ্য এবং আধুনিকতা” বিষয়ে তিনি আইএবিতে আলোচনা করবেন ।

গেলাম যথাসময়ে, তিনি তার দীর্ঘ বক্তব্য দিলেন।
বক্তব্যে তিনি যথারীতি অজস্র অপ্রয়োজনীয় অপ্রাসঙ্গিক কথা বললেন। তার বক্তব্যের শুরুতেই বললেন, সংস্কৃতি শব্দটি আদতে ইংরেজী কালচার শব্দের অনুবাদ, এ প্রসঙ্গে তিনি এগ্রিকালচার হটিকালচার এসবও আনলেন এবং রবীন্দ্রনাথ কালচার শব্দটির অনুবাদ ‘কৃষ্টি’ না করে ‘সংস্কৃতি’ করেছেন বলে দাবী করলেন।

তিনি বললেন “বাংলা” শব্দটিও তেমন আদি পুরোনো কিছু নয়, হিন্দী থেকে দক্ষিণের বাঙালা থেকে এসেছে, বলেই বললেন, আমরা যারা বাংলা শব্দ ঐতিহ্য নিয়ে কথা বলি গৌরব করি, তারা আসলে জানিনা বাংলা ভাষা তেমন কিছু নয়, আমরা সাধারণ মানুষ এইসব বলে ‘অরগাজমের’ আনন্দ পাই।

এরপর তিনি তার স্বভাব সুলভ সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা শুরু করলেন, নজরুল হামদ নাত লিখেছেন, দুই ধর্মকেই ধারণ করেছেন। অথচ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মুসলমানদের নিয়ে কোন কিছু লিখেননি এইসব প্যাঁচালে গেলেন। অতঃপর রবীন্দ্রনাথ যে “পতিত ব্রাহ্মণ”, যশোরের নিম্ন বর্ণের হিন্দু বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন, রবীন্দ্রনাথ কখনো শ্বশুর বাড়ি যাননি সেই আলোচনায় গেলেন।

এরমধ্যে তিনি অতুল প্রসাদ সেনের কবিতা পড়লেন, মধুসূদন পড়লেন আরো কি কি ফানৌ দেরিদা ইত্যাদি ঘুরে এসে বললেন আসলে এই সংস্কৃতি ঐতিহ্য বলে কিছু নেই, আমরা এসব বলি ‘ধর্ষকাম মর্ষকামে’র শিকার হয়ে!

তারপর বললেন যারা লালন নিয়ে এতো বড়াই করেন তারা জানেন না লালনের চেয়েও আরো বড় একজন আছেন, যিনি নোয়াখালী চট্টগ্রাম অঞ্চলের কবি(?!) দার্শনিক (?!), যার নাম ‘আলী রাজী’, তার একখানা বই আছে যার নাম ‘জ্ঞানসাগর’।

তিনি সনাতন ধর্মকে তুচ্ছ করে বারবার মুসলমান, বাঙালী মুসলমান ইত্যাদি টানলেও যা কিছু কবিতা, আখ্যান পড়লেন সবই কিন্তু হিন্দু মাইথোলজি ভিত্তিক!

তিনি বললেন বাংলাদেশে বাংলা ভাষার করুণ অবস্থা এবং বললেন বাংলাদেশে উর্দু বলতেন অনেক পরিবার, একটু খোঁচা দিলেন ফরিদপুরের দিকে বিস্তৃতিতে গেলেননা। কিন্ত আসলে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে হেয় না করলে তো তার সিলেবাস কমপ্লিট হয়না!

একটা সময় বললেন অমর্ত্য সেন নোবেল পাননি, এ তথ্যটি খাঁন সাহেব কেবল জানতেন আর কেউ জানতেননা, সাম্প্রতিক সময়ে উনি গুগলেও দেখেছেন অমর্ত্য সেন নোবেল পাননি!!

একটু খানি আর্কিটেক্চার নিয়ে বলতে যেয়ে তিনি ভবনের নাম কেন ইংরেজীতে লেখা বাংলায় নয় এতেই সীমাবদ্ধ থেকে চলে গেলেন রোম,
রোমের আর্কিটেক্চার রোমান্টিক বলেই আবার তিনি ধরাধামে ফিরে এলেন, এবার বোমা ফাটালেন। বললেন বাঙালী কোন জাতি নয়, বাঙালীকে জাতি বলাটা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের আগ্রাসন।

এরপর বললেন এই যে আপানারা যারা আর্কিটেক্ট তারা জ্ঞানের সর্ব নিম্ন স্তরে অবস্থান করেন, এরিস্টোটলের মতে জ্ঞানের ছয়টি স্তরের নাম বললেন অস্পষ্ট ভাবে (নিজেই ভুলে গেছেন সম্ভবত😀), তারপর বললেন যে জ্ঞান নিম্নাঙ্গে থাকে তা ‘টেকনো’- টেকনিক্যাল, স্থাপত্য বিদ্যা তাই সর্বনিম্ন জ্ঞান।

তিনি অপ্রাসঙ্গিক ভাবে শিষ্টাচারের কথা বললেন, বললেন তিনি মাদ্রাসায় পড়েননি(?!😂)।

তিনি বললেন শাড়ি বাঙালীর কালচার নয়, রবীন্দ্রনাথের ভাতৃবধু জ্ঞানদা নন্দনী প্রথম ব্লাউজ এবং শাড়ি পড়েছেন।

আপনারা বুঝতেই পারছেন আমার লেখার বাইরে আরো কতো অপ্রয়োজনীয় বর্জ্যসদৃশ কথা তিনি বলেছেন, সব মনে রাখলে আমার মাথা নষ্ট হবে আর লিখলে আপনাদের মাথা নষ্ট হবে। 🙃

আশা করি আইএবি তার পুরো বক্তব্য আপলোড করবেন।

আমি যখন কথা বলার সুযোগ পেলাম, আমি জানতে চাইলাম বাংলা বলতে তিনি ‘বাংলা’ ভাষা বুঝিয়েছেন নাকি পূর্ব বাংলা পশ্চিম বাংলা স্থানিক অবস্থান, অথবা নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, নাকি কেবলি ভাষা বা সাহিত্য?

আমি বললাম আপনি শিষ্টাচারের কথা বলে অপ্রাসঙ্গিক ও অপ্রয়োজনীয় ভাবে বারবার ‘অরগাজম, ধর্ষকাম, মর্ষকাম, শৃঙ্গার’ ইত্যাদি শব্দ কেন ব্যবহার করলেন!

আমি বললাম এখন এক শ্রেণীর ট্রেন্ড হয়েছে রবীন্দ্রনাথ লালন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হেয় করা, আপনিও তাই করলেন।

আপনি কেন ধর্ম দিয়ে মানুষকে বিভক্ত করছেন, কেন এখানে এবং আগেও সাম্প্রদায়িকতা ছড়ান, কেন রবীন্দ্রনাথকে পতিত ব্রাহ্মণ বলেন, মানুষের কোন অবস্থানকে পতন বলবেন, কেন বললেন রবীন্দ্রনাথ কখনো শ্বশুরবাড়ি আসেননি, কি প্রমাণ, কোন রেফারেন্স, আমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূজা পর্বের গানকে শ্রেষ্ঠ প্রার্থনা বললাম, ইত্যাদি ইত্যাদি।

তখন তিনি মাইক নিলেন এবং আমাকে “আপা” সম্বোধন করে বললেন তিনি #এডাল্টদের আসরে এসেছেন এবং এইসব শব্দ ব্যবহার করতেই পারেন, এসব শব্দ অশ্লীল নয় এবং তখন তিনি উইথ রেফারেন্স শুরু করলেন অর্গাজম মানে অর্গানের কম্পন…

আমি স্বগতভাবে একটা “ছি” বলে হল থেকে বেরিয়ে আসলাম।

আমি জানিনা পরবর্তী আলোচনা কোন দিকে গিয়েছে, আমার একটাই জিনিস জানার আছে আইএবি কোন বিবেচনায় এমন একজন ভ্রষ্ট মানুষকে ইনস্টিটিউটে আনলেন?

(কমল বড়ুয়া দাদাকে ধন্যবাদ সহ)

(লিখেছেন: Sayeda Sultana Annee, Architect)

Categories: খোলা বাতায়ন,জাতীয়,রাজনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.