সোমবার ৯ বৈশাখ, ১৪৩১ ২২ এপ্রিল, ২০২৪ সোমবার

কর-জিডিপি ২% পয়েন্ট বাড়ালে রাজস্ব বাড়বে ৬৭,০০০ কোটি

অনলাইন ডেস্ক : দেশের জিডিপি অনুপাতে কর ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি করলে গড়ে অতিরিক্ত ৬৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় বাড়বে বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)। সংস্থাটির মতে, এই বাড়তি রাজস্ব বিভিন্ন খাতে সরকার বিনিয়োগ করলে তা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ০.২ শতাংশ বাড়াবে।

সংস্থাটি আরো বলছে, দেশের মোট সম্পদের ৩০ শতাংশই ১০ শতাংশ ধনীর হাতে। তাদের কাছ থেকে যথাযথ কর আদায় করলে এর চেয়ে বেশি রাজস্ব বাড়বে, আয়বৈষম্যও কমে আসবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর বনানীতে পিআরআই কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘আর্থিক নীতির পরিবর্তনে অর্থনীতিতে প্রভাব’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সংস্থাটির পরিচালকরা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পিআরআই চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার, নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এবং পরিচালক আবদুর রাজ্জাক ও আহম্মদ আহসান। এ ছাড়া পিআরআই পরিচালক বজলুল হক খন্দকার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তাঁদের মতে, ভোক্তারা ভ্যাটের টাকা দিলেও সব টাকা এনবিআরের কোষাগারে আসছে না।

ভ্যাট আদায়ে আরো জোরদার পদক্ষেপ দরকার। পিআরআইয়ের গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য মতে, কর-জিডিপি অনুপাত ২ শতাংশীয় পয়েন্ট শুধু ব্যক্তিগত আয়কর থেকে বাড়লে রাজস্ব ৬৫ হাজার কোটি টাকা বাড়বে এবং আর ভ্যাট থেকে বাড়লে রাজস্ব বাড়বে ৬৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। করপোরেট কর থেকে এর পরিমাণ বাড়বে ৬৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘নতুন সরকার এসেছে।

এখন রাজস্ব খাত সংস্কারের সময়। সামনের বাজেটে সংস্কারের প্রতিফলন থাকা উচিত। আমরা দেখার অপেক্ষায় আছি আগামী বাজেটে সরকার কী ঘোষণা করতে যাচ্ছে।’ তাঁর মতে, এরই মধ্যে সরকার করছাড় নিয়ে যে গবেষণা করেছে তা থেকে একটা ফলাফল নিয়ে এসে আগামী বাজেটের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে করছাড় কমিয়ে অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের ব্যবস্থা করা হয়, যার মাধ্যমে সরকার আয় বাড়াতে পারবে। সম্প্রতি আইএমএফের একটি দল বাংলাদেশ ঘুরে গেছে।

তারা বলেছে কোথায় কিভাবে করছাড় কমাতে হবে। এর কিছু পদক্ষেপ আগামী বাজেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) অন্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের দক্ষতা ব্যবহারের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনা দরকার। এর মাধ্যমে আমাদের কর প্রশাসন ঢেলে  সাজাবে, সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু হবে এবং চলমান দুর্নীতি কমানোর জন্য একটি মধ্যমেয়াদি ব্যবস্থায় যাবে। বিদ্যমান ব্রিটিশ পদ্ধতিতে কর আদায় অব্যাহত থাকলে আমাদের সুফল দেবে না।’

পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, গিনি কোইফিশিয়েন্ট হিসাবে দেশে বৈষম্য ১৯৯০ সালে  ০.৩৫ ছিল, তা এখন ০.৪৯-এ এসে গেছে। আয়বৈষম্য বেড়ে গেছে। এতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আসছে। দেশের দারিদ্র্য সুনির্দিষ্ট হারে কমেছে, কিন্তু অর্থনীতির গতির সঙ্গে সমন্বয় করে রাজস্ব আদায় বাড়েনি।

বজলুল হক খন্দকার বলেন, বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাড়ছে। তাই সহজেই করজাল বৃদ্ধি করা সম্ভব। শহরের বাইরেও কর দেওয়ার সামর্থ্যবান মানুষ আছে। আহম্মদ আহসান বলেন, বাংলাদেশ এক হাজার ৫০০ পণ্য রপ্তানি করে। এসব পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি যথেষ্ট হচ্ছে না। এর বড় কারণ বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো। 

বিষের বাঁশী/ সংবাদদাতা/ ইলিয়াস

Categories: অর্থনীতি,জাতীয়,শীর্ষ সংবাদ,সারাদেশ

Tags:

Leave A Reply

Your email address will not be published.