সোমবার ৯ বৈশাখ, ১৪৩১ ২২ এপ্রিল, ২০২৪ সোমবার

ঢাকা ছাড়ার মুখে ঈদ যাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক : আব্দুল্লাহপুর মোড়। ঢাকা শহর পেছনে রেখে টঙ্গী হয়ে সোজা চলে গেছে গাজীপুরের পথ। মোড় থেকে বাঁ দিকে গেছে কামারপাড়া হয়ে আশুলিয়ার সড়ক। এই মোড়কে কেন্দ্র করে তিন পাশের কয়েক কিলোমিটার সড়কের অবস্থা বেহাল।

স্বাভাবিকভাবেই কমে আসছে গাড়ির গতি। গাড়ির চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র যানজটের আশঙ্কাও রয়েছে।

এর আশপাশের সড়কে যেমন রয়েছে খানাখন্দ, তেমনি দুই পাশেই চলছে একাধিক প্রকল্পের কাজ। কামারপাড়া দিয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজের জন্য অর্ধেক সড়ক দখল হয়ে আছে।

আবার কামারপাড়ার দিকে সড়ক অর্ধেক কাটা। এই পথে গাড়ি চলার জন্য আপাতত একটি বাইপাস সড়ক তৈরি করা হলেও সেটি পর্যাপ্ত নয়। এক লেনের একটি সড়ক তৈরি করা হয়েছে। এক পাশে মাটির নতুন সড়ক ও অন্য পাশে নিচুতে পুরনো সড়ক; এতে করে ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

আবার সোজা পথে টঙ্গী হয়ে গাজীপুর যেতে বড় বাধা টঙ্গী সেতু। এই সেতুর অবস্থাও ভালো না। একসঙ্গে দুটির বেশি গাড়ি সেতু পার হতে পারে না। ফলে এখানে এসে গাড়ির ধীরগতি তৈরি হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মোড়ের কাছে মূল সড়কে এসে নেমে র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের উড়াল সড়ক।

এতে মূল সড়ক সরু হয়ে গেছে। নিচের সড়কে বাসের কাউন্টারে বাসগুলো থামছে। যাত্রীরা বাসে ওঠানামা করছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের কারণে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চলতে পারছে না। অর্ধেক সড়ক কেটে চলছে নতুন সড়কের কাজ। সেখানে ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে। সড়কের বাকি অর্ধেকে চলছে গাড়ি।

এদিকে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের গাড়িগুলো ঢাকা থেকে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর হয়ে টঙ্গী দিয়ে বের হয়। এ ছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলের আরো অন্তত ১৬টি জেলার গাড়ি আব্দুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া হয়ে আশুলিয়া সড়ক দিয়ে চলাচল করে।

জানতে চাইলে উত্তরা পূর্ব জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মেহেদী হাসান বলেন, ঢাকা থেকে বের হওয়ার জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। ঈদের সময় এই সড়কে গাড়ির চাপ আরো বাড়বে। কিন্তু চাপ সামলানোর প্রস্তুতি এখনো নেওয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একাধিকবার বলা হলেও তারা এখনো সড়কের ওপর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাধারণত ঢাকা ছাড়ার তিনটি বড় পয়েন্ট রয়েছে। এগুলোর আরেকটি ঢাকার দক্ষিণে যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া ও পোস্তগোলাকেন্দ্রিক। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার আগে ঢাকা থেকে এই পথ ব্যবহার করে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচল করত। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গাড়িগুলোও এই পথ দিয়ে ঢাকা ছাড়ছে।

চট্টগ্রামের দিকে যেতে ঢাকা ছাড়তে কাঁচপুর ব্রিজের পূর্ব ঢাল, সাইনবোর্ড বাসস্ট্যান্ড ও সানারপার ইউটার্নে তীব্র যানজটের দেখা মিলতে পারে। আবার পোস্তগোলা এলাকার যানজটের প্রভাব পড়তে পারে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে। এই ফ্লাইওভারকে কেন্দ্র করে ঢাকার ভেতর চানখাঁরপুল, ফুলবাড়িয়া ও বংশাল এলাকায় গাড়ির জট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় পর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ বাস সেতু দিয়ে পদ্মা নদী পাড়ি দিচ্ছে। এতে ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী বাসের চাপ বাড়ছে ঢাকার সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও গুলিস্তান এলাকায়। পদ্মা সেতুতে যাওয়ার জন্য এসব এলাকার বাস মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা হয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কে (ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে) উঠবে।

আবার ওই পথ ব্যবহার করার জন্য গাবতলী ও মহাখালী টার্মিনালের বাসও ঢাকার মধ্য দিয়ে ওই সব এলাকায় যাবে। সেই সঙ্গে যুক্ত হবে ছোট ও ব্যক্তিগত গাড়ি। আর ঢাকার মধ্যে নিয়মিত চলা যানবাহন তো রয়েছেই। আবার যারা নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকা ছাড়বে তাদের চাপও পড়বে এসব এলাকায়।

তবে ঢাকা থেকে বের হতে পারলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যানবাহনগুলো আর কোনো ঝক্কি ছাড়াই পদ্মা সেতু পেরিয়ে গন্তব্যে যেতে পারবে। সড়কের পাশাপাশি ঈদ যাত্রায় বরাবর আলোচনায় থাকে রেল, লঞ্চ ও ফেরিঘাট। এবার ফেরির পথ স্বাভাবিক থাকবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এবারের ঈদ যাত্রায় রাজধানীবাসী যানজটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বে। তাই ঢাকার প্রতিটি সড়কের ফুটপাত হকার ও অবৈধ পার্কিংমুক্ত করা দরকার।

সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতের প্রবেশদ্বারগুলোতে যাত্রীদের অসহনীয় যানজটে পড়তে হবে। এসব যানজট নিয়ন্ত্রণে রাস্তার মোড় পরিষ্কার রাখা ও ছোট যানবাহন বিশেষ করে রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি বাইক মূল সড়কে চলাচল বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে আগামী ২৫ রমজান থেকে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চল অচল হয়ে যেতে পারে।

এদিকে ঢাকার আরেক প্রবেশমুখ গাবতলী-আমিনবাজার এলাকা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই পথে বাসের চলাচল তুলনামূলক কমেছে। তবু ঈদের আগে গাড়ির চাপ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা। এই এলাকায় গাড়ির জট তৈরি হলে মিরপুরের টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর ও শ্যামলী পর্যন্ত যানজট তৈরি হতে পারে।

জানতে চাইলে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, স্বাভাবিক দিনেই ঢাকার সড়ক অতিরিক্ত গাড়ির চাপ নিতে পারে না। ঈদকে কেন্দ্র করে অল্প সময়ে অনেক বেশি গাড়ির চাপ তৈরি হবে। ঢাকা থেকে বের হওয়ার মুখগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থা শক্ত রাখতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে ভোগান্তি দীর্ঘ হবে, পরিস্থিতি মোকাবেলাও কঠিন হয়ে পড়বে।

বিষেরবাঁশী/ সংবাদদাতা/ শ্যামল দাষ

Categories: জাতীয়,শীর্ষ সংবাদ,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.